বৃহস্পতিবার, ১৩ মার্চ, ২০১৪

হতাশ মানুষদের যা বলবো আর যা বলবো না ।



আমাদের আশে পাশে নানা কারণে অনেক মানুষ হতাশায় ভোগে। আসুন জেনে নেই তাদের সাথে কথা বলার সময় কি মাথায় রাখা উচিৎ।


১. পাশে থাকার কথা জানান।
যা বলবেন: তুমি একা নও, পাশে আছি।
যা বলবেন না: তোমার চেয়ে অনেকেই খারাপ অবস্থায় আছে।


২. তাকে জানান, সে আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
যা বলবেন: আমার কাছে তোমার গুরুত্ব অবশ্যই আছে।
যা বলবেন না: কেউ বলতে পারবেনা তাদের জীবনে সমস্যা নেই।


৩. তাকে সাহায্য করুন।
যা বলবেন: বুকে জড়াবো তোমায়?
যা বলবেন না: নিজের জন্য দুঃখ করা বন্ধ কর।


৪. হতাশা একটি কঠিন বাস্তবতা।
যা বলবেন: তুমি স্বাভাবিকই আছ।
যা বলবেন না: তুমি তো সব সময়ই হতাশ।


৫. আশার কথা শুনান।
যা বলবেন: খুঁজে দেখ এখনো অনেক পথ খোলা।
যা বলবেন না: হতাশ চেহারা নিয়ে ঘুরে বেড়িও না।


৬. হতাশা অতিক্রমের পথ দেখান।
যা বলবেন: যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চল রে...
যা বলবেন না: তোমার নিজের দোষেই কিছু হয় না।


৭. তাকে বোঝান যে, আপনি তাকে বোঝেন।
যা বলবেন: তোমার কষ্টটা আমি অনুভব করতে পারছি না সত্যি, কিন্তু খুব ভাবে বুঝি কষ্টটা কোথায়।
যা বলবেন না: বিশ্বাস কর, আমি তোমার কষ্ট অনুভব করছি, আমারও একই সমস্যা হয়েছিল।


৮. আস্থা অর্জন করুন।
যা বলবেন: আমি তোমাকে ছেড়ে চলে যাচ্ছি না।
যা বলবেন না: তোমার যন্ত্রণা আর নিতে পারছি না।


৯. তার প্রতি যত্নশীল হোন।
যা বলবেন: তোমাকে সত্যি ভালবাসি (যদি সত্যি তা হয়)
যা বলবেন না: তোমার নিজের কথা বলতে বলতে বিরক্তি আসেনি এখনো?


১০. এক সাথে অর্জন করা উপায় দেখান।
যা বলবেন: তোমার আচরণ বা কথায় আমি কষ্ট পাই না।
যা বলবেন না:সব সময় সব কিছু মানায় না। 

(সংকলিত) 

বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৪

দুইটি ঘটনায় রাষ্ট্রের অনুভূতি জানতে ইচ্ছে করে।

ঘটনা একঃ
কয়েকদিন আগে মাঝ রাতে শ্বাসকষ্টের একটা জরুরী ঔষধ খুজতে জয়দেবপুর বাজারের প্রায় সবগুলো ফার্মেসি খুজে খুজে হয়রান হয়েছিলাম।ঔষধ টি পাইনি।শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল আমার ছোট ভাইয়ের ছেলের।তো এই অবস্থায় ভীষণ খারাপ লাগছিল। চোখের সামনে 
ফুটফুটে দুরন্ত পিচ্চিটা কষ্ট পাচ্ছে,ভিতর থেকে মেনে নিতে পারছিলাম না।সেই কষ্ট থেকেই হন্তদন্ত হয়ে ছুটেছিলাম এক ফার্মেসী থেকে আরেক ফার্মেসী । শেষমেশ না পেয়ে হাসপাতালের দিকে যাচ্ছিলাম।আনমনে ছিলাম বলে বিকট শব্দ অতটা কানে লাগেনি।বিকট শব্দ আসছিল মন্দির থেকে।সেদিন ছিল হিন্দু ধর্মের সরস্বতী পুজা ।পুজার রাতে মন্দিরকে বিশেষ কায়দায় চারদিক থেকে এক প্রকার পেঁচিয়ে প্রাচীর তৈরি করা হয়।ভিতরে হাই ভলিউমে কনসার্ট করা স্পিকারে ডিজে মিউজিক বাজছিল।বিশ তিরিশ সেকেন্ডের মত দাঁড়ালাম,বাইরে থেকে বুঝার চেষ্টা করলাম কি হচ্ছে ভিতরে।যেটা মনে হল,ডিজে মিউজিকের তালে তালে ভিতরে উদ্যম উন্মাদনা চলছে।মোটামুটি বেকুব হইলাম।এইরকম মাঝরাতে বিদ্যার দেবী কে তুষ্ট করার উদ্ভট তেলেসমাতি দেখে।আমি যতটুকু জানি,যে 
কোন উচশব্দ তৈরি কারক অনুষ্ঠান করতে গেলে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অনুমতি সাপেক্ষে করতে হয়।খুব সম্ভবত তারাও করেছে রাষ্ট্রের অনুমতি সাপেক্ষে। 

ঘটনা দুইঃ
কুতুব্বাগ দরবার শরিফের খুব সম্ভবত বার্ষিক ওরস বা খানকা টাইপের কিছু একটা হয়ে গেলো ফার্মগেট আর খামার বাড়ির মাঝখান টায় পার্কে।ওঁরে ব্বাপ,মাহফিল কারে কয়।পার্ক মুরিদানে গিজগিজ করতেছিল ।হাজারো মুরিদানে ধন্য হয়েছিল পার্ক।মিনিমাম কয়েকশো মাইক চারদিকে সেট
করা হয়েছিল আসে পাশে কয়েক কিলোমিটার জুড়ে।একটা ব্যস্ত নগরীর ব্যস্ততম এলাকায় বিকট শব্দে মাইক বাজান তাও কয়েক কিলোমিটার এলাকা নিয়ে,এদের সমিস্যা কি !!! এখানেই শেষ নয়।পাশের রাস্তায় সারি সারি করে বেঁধে রাখা গরু,ছাগল এমনকি উট ও।এগুলো এখানে আসলো 
কোত্থেকে ?আজব লাগলো আমার কাছে ।একটু দাড়িয়ে গরু ছাগলের স্টোরিটা বুঝার চেষ্টা করলাম।এই খানকার মুরিদগণ খুশি হয়ে পীরের জন্য এই সব আয়োজন।রীতিমত গরুছাগলের হাট।তো এই বিকট শব্দ এবং গরুছাগলের হাট নিশ্চয়ই রাষ্ট্রের অনুমুতি নিয়েই করা হয়েছে আশা রাখি। 

ক্রাইম রিপোর্টার সমীপে ।

  "আমাকে পথেঘাটে অনেকে জিজ্ঞেস করে যে, খালাম্মা আপনাকে অনেক চেনা চেনা লাগে। উত্তরে আমি বলি যে, আমি মডেলিং করি। সন্তান হারা মায়ের আহাজারি করার মডেল আমি। "নিহত সাংবাদিক সাগর সরোয়ার এর মা এভাবেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন স্মরণ সভায়।দুই দুইটি বছর চলে গেল সাজা তো দূরে থাক আলামতেরই কোন কুল কিনারা করতে পারেনি আইন সংস্থা।

      পুলিশ/ডিবি/র‍্যাব না হয় পারলই না নিহত সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যাকান্ডের কোন ক্লু বের করতে ।কিন্তু রাজনীতি,অর্থনীতি,আন্তর্জাতিক ,পরিবেশ,দশদিগন্ত ইত্যাদি ইত্যাদির বাইরেও যে ক্রাইম রিপোরটিং নামে একটা কিছু আছে নির্ভীক,আকুতভয় এবং প্রতিশ্রুতিশীল সাংবাদিক মহলের সেটা ভুলে গেলে চলবে?

       সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরী এবং সাংবাদিক রুহুল আমিন গাজী ইন রিডিং ,যদি পারেন প্লিজ,আপনাদের ক্রাইম রিপোর্টার সহকর্মীদের এসাইনমেন্ট দিয়ে দিন।এ হত্যাকাণ্ডের জট খুলুক।আমার বিশ্বাস তাঁরা পারবে।নইলে "মেঘ" প্রজন্ম আমাদের খুনে হিসেবে চিনবে।

         নিহত সাংবাদিক দম্পতি সাগর -রুনি হত্যাকাণ্ডের দৃশটান্তমুলক শাস্তি চাই।